পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের সড়কগুলোতে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। কিন্তু সেই তুলনায় বাড়েনি বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের প্রশস্ততা। ১৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের বড় অংশ এখনো মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত দুই লেনের। এর সঙ্গে রয়েছে প্রায় ৭০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক।

ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে উজিরপুরের সানুহার, বামরাইল, নতুন শিকারপুর, জয়শ্রী ও ইচলাদী এলাকার বাঁকগুলো দীর্ঘদিন ধরে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত বাঁক, অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে এসব এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে। ২০২২ সালের ২৯ মে সানুহারের বাঁকে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই ১০ যাত্রী নিহত হন। এরপরও ওই এলাকায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, উজিরপুর ছাড়াও গৌরনদীর ভূরঘাটা, টরকী, আশোকাঠি, মাহিলাড়া, বাটাজোড়, কটকস্থল, পিঙ্গলাকাঠি ও কসবাসহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে ১৬৬ কিলোমিটার মহাসড়কে এমন বাঁকের সংখ্যা প্রায় ৭০টি।

পদ্মা সেতু চালুর পর মহাসড়কে যানবাহনের চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগে ভূরঘাটা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ১৯ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে সড়কের বড় অংশ এখনো ২৪ ফুট প্রশস্ত।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন ও অন্যান্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সোজা করার জন্য প্রকল্পও প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নয়, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো স্থায়ীভাবে সংস্কার ও মহাসড়ক প্রশস্ত করা জরুরি। তাদের মতে, যানবাহনের চাপ যেভাবে বাড়ছে, তাতে সরু সড়ক ও বিপজ্জনক বাঁক দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।